*“আহাদ… আহাদ…! দাসত্বের শিকল ভেঙে যিনি উঠালেন আযানের ধ্বনি”*
ইসলামের ইতিহাসে… অনেক সাহাবীর জীবন আমাদের শিক্ষা দেয়।
কিন্তু যিনি প্রথম আযানের ধ্বনি তুলেছিলেন… যিনি দাসত্বের শিকল ভেঙে ঈমানের আলো ছড়িয়েছিলেন…
তিনি আর কেউ নন—হযরত বিলাল (রা)।
মক্কার বুকে জন্ম নিয়েছিলেন তিনি।
বাবা ছিলেন দাস, মা ছিলেন আবরাহার রাজবংশের কন্যা… অথচ ভাগ্যের ফেরে মা হয়েছিলেন এক গৃহকর্মী।
সেই ঘরেই জন্ম নিয়েছিলেন ছোট্ট বিলাল।
কালো বর্ণ… লম্বা দেহ… আর কণ্ঠস্বর ছিল অদ্ভুত মধুর।
কিন্তু সুখ তাঁর ভাগ্যে ছিল না।
শিশুকালে মা–বাবা মারা গেলে, তিনি হয়ে গেলেন ক্রীতদাস।
মনিব উমাইয়া তাকে দিতেন অকথ্য নির্যাতন।
মরুভূমির উত্তপ্ত বালিতে শুইয়ে বুকে চাপিয়ে দিতেন ভারী পাথর।
চাবুকের আঘাতে ঝরতো রক্ত…
অসহ্য যন্ত্রণায় কাতর হয়ে পড়লেও বিলালের ঠোঁটে উচ্চারিত হতো একটাই শব্দ—
“আহাদ… আহাদ… আল্লাহ এক।”
উমাইয়া বলতো—“ইসলাম ত্যাগ করো, মুক্তি পাবে।”
কিন্তু বিলাল (রা) জবাব দিতেন—
“না, আল্লাহ ছাড়া আর কারো সামনে মাথা নত করবো না।”
এই খবর পৌঁছালো প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা)-এর কাছে।
তাঁর অন্তর কেঁদে উঠলো।
শেষমেশ হযরত আবু বকর (রা) মুক্ত করলেন বিলালকে।
এরপর থেকেই শুরু হলো তাঁর নতুন জীবন।
যখন ইসলামি সমাজ দাঁড়িয়ে গেলো মদিনার বুকে, তখন দেখা দিলো নতুন প্রয়োজন।
লোকজনকে একত্রিত করার উপায় চাই।
স্বপ্নাদেশের মাধ্যমে আযানের বাণী এলো…
আর সেই আযান তোলার জন্য নবীজী বেছে নিলেন বিলালকে।
কারণ তাঁর কণ্ঠে ছিলো ঈমানের শক্তি… ভালোবাসার মধুরতা… আর আযানের সুরে ছিলো আল্লাহর প্রতি ভক্তি।
বছরের পর বছর বিলাল (রা) আযান দিলেন মসজিদে নববীতে।
কিন্তু রাসুল (সা)-এর ইন্তেকালের পর… তিনি আর আযান দিতে পারলেন না।