### নবীজির কৃতজ্ঞতার সিজদা: আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি ধন্যবাদ প্রদর্শনের পথ
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ আমাদের প্রতি নিয়মানুযায়ী কৃতজ্ঞতা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রাজ্ঞ আলেমরা মনে করেন, আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতার সর্বোত্তম প্রকাশ হলো তাঁর দরবারে সিজদায় অবনত হওয়া। এটি নবী-রাসুলদের সুন্নত এবং প্রিয় আমল।
**কৃতজ্ঞতার সিজদার কারণ:**
ইমাম নববী (রহ.) বলেছেন, বাহ্যিক নেয়ামত লাভ বা বিপদ থেকে মুক্তি পেলে কৃতজ্ঞতার সিজদা সুন্নত। নবীজি (সা.) সর্বদা আল্লাহর নতুন নেয়ামত প্রাপ্তির পর সিজদায় অবনত হতেন। আলেমদের মতে, এ ধরনের নেয়ামত হতে পারে সন্তান, সম্পদ, বিপদমুক্তি বা অন্য কোনো অনুগ্রহ।
**কৃতজ্ঞতার সিজদার সময়:**
শায়খ ইবনে উসাইমিন (রহ.) বলেন, আল্লাহর নেয়ামত অগণিত। তাই নতুন নেয়ামত প্রাপ্তির সময় সিজদা করা মুস্তহাব।
**নবীজি (সা.)-এর জীবনে উদাহরণ:**
১. হামদান গোত্র ইসলাম গ্রহণের খবর পেয়ে নবীজি (সা.) সিজদায় লুটিয়ে পড়েন।
২. জিবরাইলের সুসংবাদ পাওয়ার পর কৃতজ্ঞতার সিজদা করেন।
৩. মক্কা থেকে মদিনার পথে, নবীজি (সা.) তিনবার সিজদা করে উম্মতের জন্য দোয়া ও শাফাআতের আবেদন করেন।
**সাহাবিদের উদাহরণ:**
* কাব বিন মালিক (রা.) নবীজি (সা.)-এর ক্ষমা লাভের খবরে সিজদা করেন।
* আবু বকর (রা.) ও ওমর (রা.) নির্দিষ্ট জয় বা খবর পেয়ে কৃতজ্ঞতার সিজদা করেন।
এভাবে নবীজি (সা.) ও সাহাবিরা দেখিয়েছেন, নেয়ামতের প্রতি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সেরা মাধ্যম হলো সিজদা। আল্লাহ সবাইকে কৃতজ্ঞ বান্দা হিসেবে কবুল করুন। আমিন।