*আসিয়া বিনতে মুজাহিম: ধৈর্যের প্রতীক ও ঈমানের আলো*
ফেরআউনের প্রাসাদে বসবাস করেও আসিয়া বিনতে মুজাহিম ছিলেন হৃদয়ে অটল ঈমানদার এক নারী। বিলাসিতা, ঐশ্বর্য—সবকিছুর মাঝেও তিনি বেছে নিয়েছিলেন আল্লাহর সন্তুষ্টি আর ন্যায়ের পথ। আল্লাহর ভয় আর প্রেম তাকে করে তুলেছিল পৃথিবীর নারীজাতির জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
মুসা (আ.)-এর জন্মের সময় ফেরআউন শিশু হত্যা করে তার রাজত্ব টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু আল্লাহর কুদরতে ছোট্ট মুসা নীল নদের ঢেউ ভেঙে পৌঁছে যায় ফেরআউনের প্রাসাদে। আসিয়ার দয়ালু চোখে যখন শিশুটিকে পড়ে, তার মাতৃত্বের অনুভূতি জেগে ওঠে। তিনি ফেরআউনকে থামিয়ে দিয়ে বলেন— “এ শিশু আমার ও তোমার নয়নমণি, তাকে হত্যা করো না।” সেই মুহূর্তেই প্রাসাদের অন্ধকার কোণে জন্ম নেয় এক আলোকরশ্মি।
আসিয়া জানতেন, আল্লাহর পথে হাঁটা মানেই পরীক্ষায় পড়া। ফেরআউনের নির্যাতন, যন্ত্রণার আগুন, তবুও তিনি ভেঙে পড়েননি। নিজের জীবন দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন— সত্য ও ঈমানের জন্য কষ্ট কোনো ত্যাগ নয়, বরং আল্লাহর ভালোবাসার কাছে পৌঁছানোর সিঁড়ি।
আসিয়া তাই শুধু ফেরআউনের স্ত্রী নন; তিনি ধৈর্যের প্রতীক, এক অবিনশ্বর আলো, যা যুগ যুগ ধরে বিশ্বাসীদের হৃদয়ে সাহস যোগায়।