ডেস্ক রিপোর্ট (অনুসন্ধানী):
সাংবাদিক হওয়া কি এখন আর পেশা নয়, শুধুই একটি কার্ডের নাম? দেশের বিভিন্ন এলাকায়—বিশেষ করে মফস্বলে—টাকার বিনিময়ে যাচাই-বাছাই ছাড়াই সাংবাদিক পরিচয়ের আইডি কার্ড সরবরাহের ভয়াবহ চিত্র উঠে আসছে। একশ্রেণির নামসর্বস্ব পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও আইপি টিভি এই ‘প্রেস কার্ড বাণিজ্য’-এর মাধ্যমে সাংবাদিকতার পবিত্রতাকে প্রকাশ্যে কলঙ্কিত করছে।
BSD BARTA এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কিছু তথাকথিত গণমাধ্যম সামান্য অর্থের বিনিময়ে যে কাউকে ‘সাংবাদিক’ বানিয়ে দিচ্ছে। এই কার্ড হাতে নিয়ে চোর-বাটপার, ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে নানা পেশার অসাধু ব্যক্তিরা সাংবাদিক পরিচয়ে এলাকায় দাপট দেখাচ্ছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা নানান অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে এবং বিপদে পড়লেই সাংবাদিক পরিচয় ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।
এমনও ঘটনা ঘটছে—পুলিশ বা স্থানীয় জনতার হাতে আটক হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে আন্ডারগ্রাউন্ড ও অজ্ঞাতনামা পত্রিকার প্রেস কার্ড উদ্ধার হচ্ছে। এতে শুধু অপরাধীর পরিচয়ই প্রকাশ পাচ্ছে না, বরং প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে পুরো সাংবাদিক সমাজ। একাধিক ঘটনায় দেখা গেছে, এসব কথিত সাংবাদিকের অপকর্মের দায় শেষ পর্যন্ত এসে পড়ে প্রকৃত ও পেশাদার সাংবাদিকদের ওপর।
ফলাফল হিসেবে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বশীল সাংবাদিকরা আজ
সবচেয়ে বেশি বিপাকে। কোনো তথ্য সংগ্রহ করতে গেলেই সাধারণ মানুষের চোখে একজন প্রকৃত সাংবাদিকও সন্দেহের
তালিকায় পড়ে যাচ্ছেন। সাংবাদিকতার প্রতি মানুষের আস্থা ক্রমেই কমে যাচ্ছে—যার দায় কে নেবে? শুধু পত্রিকা বা অনলাইন
পোর্টালেই সীমাবদ্ধ নয় এই অনিয়ম। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে,
কিছু আইপি টিভির তথাকথিত বিশেষ প্রতিনিধি ও স্টাফ রিপোর্টার পরিচয়ে অনেকেই জেলা থেকে জেলা, উপজেলা থেকে উপজেলা চষে বেড়াচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলা প্রতিনিধিকে অবহিত না করেই তারা সংবাদ সংগ্রহ করছেন, যা সাংবাদিকতার ন্যূনতম শিষ্টাচার ও নীতিমালার চরম লঙ্ঘন। নীতিমালা অনুযায়ী একজন জেলা প্রতিনিধি তার গোটা জেলার এবং উপজেলা প্রতিনিধি তার নির্দিষ্ট উপজেলার সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করবেন। অথচ সেই কাঠামো ভেঙে বিশেষ প্রতিনিধি নামধারীরা যখন পুরো এলাকা দখল করে কাজ করেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই দ্বন্দ্ব, বিশৃঙ্খলা ও অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। প্রশ্ন উঠছে—এভাবে দায়িত্বহীনতা ও সমন্বয়হীনতার মাধ্যমে কি আদৌ নিরপেক্ষ ও মানসম্মত সাংবাদিকতা সম্ভব? বিশেষজ্ঞদের মতে, অবিলম্বে প্রেস কার্ড ইস্যু ও সাংবাদিক নিয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর নীতিমালা বাস্তবায়ন না হলে এই অবস্থা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। ভুয়া ও নামসর্বস্ব গণমাধ্যম চিহ্নিত করে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করা এবং সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহারে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
অন্যথায়, কয়েকজন অসাধু ব্যক্তির লোভ ও অপকর্মে ধ্বংস হয়ে যাবে একটি দায়িত্বশীল পেশার মর্যাদা—যার ক্ষতি হবে পুরো সমাজের।
মন্তব্য করুন