এ যেন মধ্যযুগীয় কায়দার নির্যাতনকেও হার মানিয়েছে। প্রথমে অপবাদ পরে পরিবারের সবাই মিলে ভাড়াটিয়াকে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেয়া হয় শরীরের একাধিকস্থানে। চুল কেটে বিবস্ত্র করতেও পিছু পা হয়নি, এরপরে পিটায়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে। এ ঘটনায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে বাড়িতে আসলেও নির্যাতনকারীদের ভয়ে দিন কাটছে অসহায় পরিবারটির। গত ২৭ সেপ্টেম্বর মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটকচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে, ঘটনাটি জানাজানি হলে ফুঁসে উঠে স্থানীয়রা। রাস্তা অবরোধসহ দিচ্ছেন কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকালে দোষীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবা ওরসী। তবে পুলিশ বলছে, দ্রুতই গ্রেপ্তার হবে দোষীদের। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার ঘটকচর এলাকার মফিজ সরদারের ছেলে সোহাগ সরদার তার ভাড়াটিয়া প্রবাসীর স্ত্রীকে কৌশলে গেস্ট রুমে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় তিনি ঘটনাটি সিসিটিভি ও মোবাইলে ধারণ করে ভিকটিমকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকেন। পরবর্তীতে সেই ভিডিও দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ অক্টোবর সোহাগ সরদারের ছোট ভাই জসিম সরদার ভিকটিমকে পরকীয়া প্রেমের অপবাদ দিয়ে নির্যাতন শুরু করেন। ঠিক সেই সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে সোহাগ সরদারের পক্ষ নিয়ে সাজিদ হাওলাদার, মিম বেগম, লামিয়া, ঝর্ণা বেগম, কালাম সরদারসহ আরও কয়েকজন ওই গৃহবধূর কক্ষে প্রবেশ করে দরজা-জানালা বন্ধ করে বেদম মারধর করেন। নির্যাতনের একপর্যায়ে তারা খুন্তি গরম করে গৃহবধূর শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে ছ্যাঁকা দেন। এরপর দড়ি দিয়ে বেঁধে ঘরের ভেতরে আটকে রাখা হয়। দীর্ঘ সময় ভিকটিমকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চিকিৎসক তাকে ঢামেক বার্ন ইউনিটে পাঠান। সেখানে দীর্ঘ দিন চিকিৎসার পরে ১৩ অক্টোবর বাড়িতে আসেন। বিষয়টি জানাজানি হলে ফুঁসে উঠে স্থানীয়রা। দোষীদের বিচার দাবি জানান তারা।
মন্তব্য করুন