হারভেস্ট মুন’র আলোয় ভাসবে প্রকৃতি, দেখা যাবে কবে
চাঁদ আমাদের কাছে বিভিন্ন সময় বিভিন্নরূপে ধরা দেয়। তবে চাঁদের রূপগুলোর মধ্যে পূর্ণিমাই আমাদের সবচেয়ে বেশি পছন্দের। পূর্ণিমা শুধুমাত্র নান্দনিক সৌন্দর্যই নয়, এর মধ্যে লুকিয়ে থাকে আবহমানকালের এক নিরব ভাষা।
চলতি সপ্তাহেই আকাশে সুন্দর মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছেন মহাকাশপ্রেমীরা। আকাশজুড়ে আলো ছড়াবে বড় আকারের চাঁদ, যা চলতি বছরের প্রথম সুপারমুন। একে ‘হারভেস্ট মুন’ও বলা হয়। মহাকাশ জগতের বিরল এবং বিশেষ এক ঘটনা
‘হারভেস্ট মুন’র আলোয় ভাসবে প্রকৃতি, দেখা যাবে কবে
চাঁদ আমাদের কাছে বিভিন্ন সময় বিভিন্নরূপে ধরা দেয়। তবে চাঁদের রূপগুলোর মধ্যে পূর্ণিমাই আমাদের সবচেয়ে বেশি পছন্দের। পূর্ণিমা শুধুমাত্র নান্দনিক সৌন্দর্যই নয়, এর মধ্যে লুকিয়ে থাকে আবহমানকালের এক নিরব ভাষা।
হার্ভেস্ট মুন হলো এমন এক পূর্ণিমা যা উত্তর গোলার্ধে শরৎ বিষুব সংক্রান্তির সবচেয়ে কাছাকাছি সময়ে ঘটে। ছবি: সংগৃহীত
হার্ভেস্ট মুন হলো এমন এক পূর্ণিমা যা উত্তর গোলার্ধে শরৎ বিষুব সংক্রান্তির সবচেয়ে কাছাকাছি সময়ে ঘটে।
চলতি সপ্তাহেই আকাশে সুন্দর মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছেন মহাকাশপ্রেমীরা। আকাশজুড়ে আলো ছড়াবে বড় আকারের চাঁদ, যা চলতি বছরের প্রথম সুপারমুন। একে ‘হারভেস্ট মুন’ও বলা হয়। মহাকাশ জগতের বিরল এবং বিশেষ এক ঘটনা হতে চলেছে এটা।
সারা বছর পূর্ণিমার চাঁদ দেখা যায়। আর এগুলোতে প্রায়ই বিভিন্ন নামে নামকরণ করা হয় যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা প্রকৃতির সাথে মানুষের সম্পর্ক প্রতিফলিত করে।
হার্ভেস্ট মুন হলো এমন এক পূর্ণিমা যা উত্তর গোলার্ধে শরৎ বিষুব সংক্রান্তির সবচেয়ে কাছাকাছি সময়ে ঘটে, অর্থাৎ শরতের শুরুতে। যা ঐতিহ্যগতভাবে ফসল সংগ্রহের সময়। প্রাচীনকালে কৃষকরা এই সময় রাতে মাঠে কাজ করত এবং ফসল সংগ্রহ করত। যে কারণে এটি হার্ভেস্ট মুন নামে পরিচিতি লাভ করে।
এই সময় চাঁদ তার কক্ষপথে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে আসে, যার কারণে এটি স্বাভাবিকের চেয়ে বড় ও উজ্জ্বল দেখায়। তাই একে ‘সুপারমুন’ও বলা হয়। এই সময় অন্তত ৬ শতাংশ বড় হয়ে দেখা দেয় চাঁদ, আর তার উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায় ১৩ শতাংশ।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আগামী সোমবার (৬ অক্টোবর) থেকে ধীরে ধীর পৃথিবীর নিকটবর্তী হতে থাকবে। পরদিন মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সূর্যাস্তের পরই আকাশে স্নিগ্ধ আলো ছড়িয়ে দেবে চাঁদ।
বিবিসির প্রতিবেদন মতে, যুক্তরাজ্যে গ্রিনিচ মান সময় মঙ্গলবার ১৮টা ২০ মিনিটে এই পূর্ণিমা চাঁদ উদিত হবে। এটি হবে বছরের সবচেয়ে বড় এবং উজ্জ্বল পূর্ণিমা এবং ২০২৪ সালের নভেম্বরের পর প্রথম সুপারমুন।
বাংলাদেশ, ভারতসহ বিশ্বের অনেক জায়গায় সূর্য অস্ত যাওয়ার সাথে সাথে এটি পূর্ব দিগন্তে উদিত হতে দেখা যাবে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন মতে, ভারতে সোমবার (৬ অক্টোবর) রাত ১০টা ৪৮ মিনিটে চাঁদ পূর্ণিমায় রূপ নেবে।
অতীতে হারভেস্ট মুনের কারণে কৃষকরা সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ চালিয়ে সুযোগ পেত। কারণ সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত ভুট্টা, শিম, স্কোয়াশ ও ধানের মতো ফসলে ভরা ক্ষেতগুলোকে এই চাঁদের আলোয় আলোকিত থাকত।
যদিও সাধারণত মনে করা হয় যে এই চাঁদ অন্যদের তুলনায় আকাশে বেশি সময় ধরে থাকে। তবে এই পার্থক্যটি আসলে ডিসেম্বরে শীতকালীন অয়নকালের সবচেয়ে কাছের পূর্ণিমার সাথে সম্পর্কিত।
প্রতিবেদন অনুসারে, হারভেস্ট মুনকে যে বিশেষ বা অনন্য করে তোলে সেটা হলো এটি সূর্যাস্তের সময় উদিত হয় এবং প্রায় একই সময়ে পরপর বেশ কয়েকটি রাত ধরে উদিত হয়।