Not Found তা'মীরুল মিল্লাত টঙ্গীতে আন্দোলনের জের: শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ওপর প্রতিশোধের অভিযোগ BSD Barta
Farhan
প্রকাশঃ 31-আগস্ট-2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

তা'মীরুল মিল্লাত টঙ্গীতে আন্দোলনের জের: শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ওপর প্রতিশোধের অভিযোগ

 প্রায় ১৩ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত এ প্রতিষ্ঠানে মেধাভিত্তিক শিক্ষার্থীরা হোস্টেলে থাকার সুযোগ পেলেও দীর্ঘদিন ধরে হল সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।
 
গত ৩০ জুলাই রাত ১১টার দিকে ১৩ দফা দাবি নিয়ে শিক্ষার্থীরা হোস্টেলের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে আন্দোলন শুরু করে। প্রথমে ব্লক শিক্ষকরা সমঝোতার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে হল সুপার মাওলানা নুরুল হক এবং উপাধ্যক্ষ মাওলানা মিজানুর রহমান শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে এলে তারাও ব্যর্থ হয়ে প্রশাসনিক ভবনে চলে যান। টানা চার ঘণ্টা উত্তেজনার পর ছাত্র সংসদের জিএস সাইদুল ইসলাম এবং এজিএস মঈনুল ইসলামের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করে। তবে পরদিন সকাল ১০টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে শিক্ষার্থীরা পুনরায় আন্দোলনে বসলে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. হিফযুর রহমান ১৩টি দাবির মধ্যে ১২টি দাবি মেনে নেন। 

পরবর্তীতে এ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (টাকসু) সন্তুষ্ট নয়। তাদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা মানে প্রহসন। টাকসুর মতে, যদি গভর্নিং বডি কিংবা স্বতন্ত্রভাবে কমিটি গঠন করা হতো তবে তা অধিক গ্রহণযোগ্য হতো।
 
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, আন্দোলনের পর থেকে তাদের ওপর ছোটখাটো বিষয়কে কেন্দ্র করে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। কারো ক্ষেত্রে টিসি দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, কাউকে বাইরে ডেকে শিক্ষক কর্তৃক মানসিক চাপ প্রয়োগ করে আন্দোলন সম্পর্কে বিভিন্ন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তারা মনে করছেন, আন্দোলনের ইসু নিয়ে টেকনিক্যালি কারো কারো সিট কেটে দেওয়া হচ্ছে। অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় এক বিষয়ের বেশি ফেল করলে সিট কেটে দেওয়ার নিয়ম থাকলেও একাধিক শিক্ষার্থী সব বিষয়ে পাস করেও কোনো উল্লেখযোগ্য কারণ ছাড়া সিট হারিয়েছেন। এবং এক বিষয় ফেল করা শরীয়ত উল্লাহ হলের প্রায় ১০ এর অধিক শিক্ষার্থীর বিভিন্ন কারণ সামনে নিয়ে এসে সিট কেটে দেওয়া হয়েছে। শরীয়ত উল্লাহ হলের ১১২ নম্বর রুমের আটজন শিক্ষার্থীর সিট কেটে দেওয়া হয়, যদিও তারা সবাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছিল। জানা যায়, গত ২৭ জুলাই তারা হোস্টেলের জুতার বক্সের রং অনুমতি ব্যতীত নিজেদের রুমের জানালায় লাগান। পরবর্তীতে হোস্টেল সুপার তাদের ডেকে শাসন করেন এবং হলে বিভিন্ন সময় যে আন্দোলন হয় তার নেতৃত্বদাতাদের নাম প্রকাশের জন্য চাপ দেন। এবং তাদের বলা হয় আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের নাম বললে তাদের অপরাধ মাফ করে দিবেন। 
 এমনকি নাম জানাতে পারলে পুরস্কার দেওয়ার প্রলোভনও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ২৮ জুলাই ফজরের পর সবার সামনে তাদের অপরাধের কারণ জানিয়ে ২০০ টাকা করে জরিমানা করা হয় এবং এক শিক্ষার্থীর অভিভাবককে বিষয়টি জানানো হয়। পরবর্তীতে এরকম কাজ আর কখনো করবেন না এমন অঙ্গীকারনামা নিয়ে ব্লক শিক্ষক ক্বারী তানভীরের কাছে গেলে তিনি তা গ্রহণ করেননি। 

পরবর্তীতে ৩০ জুলাই শরীয়ত উল্লাহ হল ও তিতুমীর হলের শিক্ষার্থীরা হলের বিভিন্ন সমস্যার সংস্কারের ১৩ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন করেন। তাদের যেই অপরাধ ছিল জানালায় রং লাগানো, সেটি নিয়ে একমাস কোনো শিক্ষক কিছু বলেননি। তবে হঠাৎ ২৭ আগস্ট মসজিদে হোস্টেল সুপার ঘোষণা দেন তাদের সিট কেটে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানান, কেন সিট কাটা হলো তা তারা জানেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, হলের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এভাবে গণহারে সিট কেটে দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানো হচ্ছে যেন ভবিষ্যতে আর কখনো ন্যায্য দাবি নিয়ে আন্দোলন করতে না পারে। তাছাড়া অনেকে বলছেন হল থেকে সিট কাটা শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে বেশিরভাগ যাদের নেতৃত্ব দেওয়ার কোয়ালিটি রয়েছে এবং পুরাতন শিক্ষার্থীদের সিট কেটে দেয়া হয়েছে। যেনো আন্দোলন না করতে পারে শিক্ষার্থীরা। 
 
এছাড়া অসংখ্য শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, ব্লক শিক্ষকদের পক্ষপাতমূলক ও প্রতিশোধমূলক আচরণ রয়েছে। বিশেষ করে ক্বারী তানভীরের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা অসংখ্য অভিযোগ তুলেছেন। তারা জানান, তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যাপারে উদাসীন, প্রায়ই কটাক্ষ করেন এবং ইসলামি আন্দোলনবিরোধী বক্তব্য দেন। হলে সাংগঠনিক দাওয়াতি কার্যক্রমেও বিভিন্নভাবে বাধা দেন। শিক্ষার্থীরা বলেন, আন্দোলনের সময় তার অপসারণের দাবি জানানো হলেও সেটি বাস্তবায়ন হয়নি।
 
পরীক্ষায় অনেক শিক্ষার্থী ফেল করলেও সিট কাটার ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীরা জানান, এক বিষয়ে ফেল করায় শরীয়ত উল্লাহ হলের ৩০২ থেকে ৩১৭ নম্বর রুমের নয়জনের সিট কেটে দেওয়া হয়েছে। অথচ নিয়ম অনুযায়ী এক বিষয়ে ফেল করলে সিট কাটার কথা নয়। তাদের দাবি, আন্দোলন করায় শিক্ষকদের প্রতিশোধমূলক আচরণের শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা, যেন ভবিষ্যতে আর কেউ আন্দোলনে না জড়ায়। অন্যদিকে অভিযোগ উঠেছে, ব্লক শিক্ষক আব্দুল গফুরের আপন ভাগিনা দুই বিষয়ে ফেল করেও সিট হারাননি। শরীয়ত উল্লাহ হলের দাখিল শ্রেণির শিক্ষার্থী সিফাত পরীক্ষায় ৪.৩৩ জিপিএ পেলেও তার সিট কেটে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অনুরোধে সিট ফেরত দেওয়া হলেও তাকে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
 
শুধু শরীয়ত উল্লাহ হল নয়, শহীদ তিতুমীর হলেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা ভয়ে কোন তথ্য দিতে রাজি হননি। একাধিক শিক্ষার্থী জানান হল থেকে তো সিট কেটেছেন অনেকের তবে ছোটখাটো ইসুকে কেন্দ্র করে টিসিও দিয়ে দিতে পারে এজন্য তারা মুখ খুলতে রাজি নয় । অভিযোগ, আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। শিক্ষকদের ব্যক্তিগত অফিসে ডেকে এনে আন্দোলনের নেতৃত্বদাতাদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার ঘটনাও ঘটেছে। মাদ্রাসার রসায়ন বিভাগের প্রভাষক আতিকুর রহমান এবং দাখিল দশম (ক) শাখার শ্রেণি শিক্ষক শাহজাহান আলীর বিরুদ্ধেও এমন অভিযোগ উঠেছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ এন্ড ইউনিভার্সিটিতে পিঠা উৎসব

1

ঈগল-১০ লঞ্চে কিছুক্ষণ আগে ভয়া'বহ অগ্নি*কা*ণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

2

ঠাকুরগাঁওয়ে ভূমিকম্প অনুভূত

3

না ফেরার দেশে চলে গেলেন ওসমান হাদি

4

আগে বঙ্গবন্ধুর মূর্তি বসাইতো, এখন তারেক রহমানের ব্যানার বসায়

5

দেশের বাজারে আবারও কমলো স্বর্ণের দাম

6

ছেলের জন্মদিনে একসঙ্গে শাকিব অপুর উপস্থিতি

7

আজ সিরিজের শেষ টি-২০ এ আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংল

8

আবারো রাজধানীতে ভূমিকম্প

9

ভারত ও পাকিস্তান নষ্ট করছে ক্রিকেটের ভাবমূর্তি

10

এবার ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ,

11

১৬ মরদেহ ঢামেক হাসপাতালে, পরিচয় শনাক্তে লাগবে ডিএনএ

12

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে, আজ থেকে বাজারে মিলবে ইলিশ।

13

জামাত ও আ. লীগের পূনর্বাসন চায় রিজভী।

14

জাবি ক্যাম্পাসে মাদক ও র‌্যাগিং-এর বিরুদ্ধে কঠোর নীতি জারি

15

প্রায় ২৩ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক মেট্রো চলাচল

16

রবিউস সানি মাসের চাদ দেখা গিয়েছে, অক্টোবর মাসের ৪ তারিখ ফাতে

17

সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত, ভারতীয় সেনাপ্রধানের হুঁশিয়ারি

18

৬ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সুপারমুন দেখা যাবে বুধবার

19

তা'মীরুল মিল্লাত টঙ্গীতে আন্দোলনের জের: শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শ

20