শিক্ষা-স্বাস্থ্য থেকে অবকাঠামো ও কর্মসংস্থানে ব্যাপক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি
রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি :
লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদর আংশিক) আসনে ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাষ্টার রুহুল আমিন ভূঁইয়া ২১ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের সুস্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরে তিনি এই ইশতেহার উপস্থাপন করেন। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রায়পুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে লিখিত ইশতেহার পাঠ করেন জামায়াত মনোনীত ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাষ্টার রুহুল আমিন ভূঁইয়া।
ইশতেহারে মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সরকারি বরাদ্দের ওষুধ শতভাগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারি বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে পর্যায়ক্রমে সব গ্রাম্য রাস্তা পাকা করা, লক্ষ্মীপুর-রায়পুর সড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণ এবং আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক, বিধবা, জেলে ভাতাসহ সব ধরনের ভাতা প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে শতভাগ পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়। একই সঙ্গে নারিকেল, সুপারি ও সয়াবিনভিত্তিক কৃষিশিল্প গড়ে তোলা, হিমাগার ও ব্যবসায়িক হাব স্থাপনের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উন্নত কারিগরি ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নার্সারি স্থাপন ও ব্যাপক বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে ইশতেহারে। এছাড়া মজুচৌধুরীহাট নদীবন্দর আধুনিকায়ন, ডাকাতিয়া নদী ও বেড়িবাঁধসংলগ্ন সব খাল দখলমুক্ত করে জলাবদ্ধতা নিরসন, রায়পুর ফিশ হ্যাচারি আধুনিকায়নের মাধ্যমে মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে আধুনিক সুবিধাসহ গড়ে তোলার কথা বলা হয়। যুব সমাজের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ, মসজিদ-মন্দিরসহ ধর্মীয় উপাসনালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অফিস-আদালত ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চাঁদাবাজিমুক্ত রাখতে কঠোর নজরদারি এবং সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের দৃঢ় অঙ্গীকার করা হয়। ইশতেহারে আরও উল্লেখ করা হয়—খাস জমি ও চরাঞ্চলের জমি প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বন্দোবস্ত প্রদান, মেডিকেল কলেজ ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা, রায়পুর পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ঢাকা-লক্ষ্মীপুর নৌ ও রেল যোগাযোগ চালু এবং প্রতি ইউনিয়নে সালিশি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ইশতেহার ঘোষণাকালে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের নির্বাচন পরিচালক ফারুক হোসেন নুরুন্নবী, সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল আউয়াল রাসেল, রায়পুর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা নাজমুল হুদা, রায়পুর পৌর আমির হাফেজ ফজলুল করিমসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
মন্তব্য করুন