আটা-চিনি-কাপড়ের রঙ দিয়ে তৈরি হচ্ছে খেজুরের গুড়!
নাটোর প্রতিনিধি: মঙ্গলবার(২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে
নাটোর জেলা বড়াইগ্রাম উপজেলা কটাশপুর গ্রাম গিয়ে Bsd Bata প্রতিনিধি দেখে খাঁটি খেজুর রসের সাথে মিশানো হচ্ছে ৭ ভাগের ১ ভাগ চিনি দিয়ে তৈরি হচ্ছে “খাঁটি” খেজুরের গুড়! শুধু তাই না—আকর্ষণীয় রঙ, বেশি দিন ভালো রাখা এবং ওজন বাড়ানোর জন্য হাইড্রোজ নামের ক্ষতিকর কেমিকেলও ব্যবহার করা হয়। এটাই নাকি বর্তমান বাজারে সবচেয়ে কম ভেজাল গুড়ের অবস্থা! রঙ, আলুর ব্লেন্ড, আর কত রকম মিশ্রণ তৈরি হচ্ছে খেজুর গুড়।
এ পর্যন্ত মোট ৬ জন গাছির সঙ্গে কথা বললাম।
৬ জনই স্বীকার করেছেন—
১০ কেজি গুড়ে ১.৫ থেকে ১.৬ কেজি চিনি মেশান,
আর গাঢ় রঙ ও দীর্ঘস্থায়িত্বের জন্য হাইড্রোজ কেমিকেল পাউডার ব্যবহার করেন।
তাদের ভাষ্য—
“আমাদের চেনা এমন কোনো গাছি নেই যে চিনি আর হাইড্রোজ ছাড়া গুড় বানায়। সবাই ব্যবহার করে।”
Bsd Barta নাটোরের প্রতিনিধি আকরাম হোসেন, যতই গভীরে যাচ্ছি, ততই অবাক হচ্ছি। ৫০% চিনি চিনি, হাইড্রোজ আর সয়াবিন তেল আর বাকিটা খেজুরের রস দিয়ে বানানো হচ্ছে গুড়।
এক গাছির (গাছি মানে, যে গাছ কেটে রস সংগ্রহ করে গুড় বানায়) বাসায় গিয়েছিলাম, গাছি, গাছির স্ত্রী, ছেলে আর গাছির মা মিলে গুড় বানাচ্ছে। পরিবারের সবাই মিলে, ভেজাল গুড় বানাচ্ছে, কিন্তু কারো মনের মধ্যে কোনো অপরাধ বোধ কাজ করে নি।
আকবর আলী বলেন যে
আমরা দাম দিয়ে গুড় কিনে আসলে চিনি + কেমিক্যাল খাচ্ছি।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মুখপত্র ডা. শংকর বিশ্বাস বলেন, Bsd Bartaকে বলেন, রাসায়নিক দ্রব্যাদি কোনোভাবে স্বাস্থ্যের জন্য না। এটা স্বাস্থ্যের ক্ষতিকারক। এরফলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হবে, বিভিন্ন রাসায়নিক কেমিক্যাল মিশ্রিত খেজুর গুড় মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এটি সরাসরি লিভার ও কিডনিতে প্রভাব ফেলে। গুড় যাচাই-বাছাই ও বিশুদ্ধতার নিশ্চিত করেই খেতে হবে।
এ বিষয়ে পাড়ে ক্যান্সার। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে সব থেকে বেশি ক্ষতি হবে।
মন্তব্য করুন